• sBusiness

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যখন নিত্যদিনের সাধারণ দৃশ্য

Updated: Jan 12



‘অতিরিক্ত কাজের চাপ মানেই ঝামেলা’ - এই ধরণের চিন্তাভাবনা আজকালকার এমপ্লয়ীদের মধ্যে খুবই সাধারণ। তবে এই চাপ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষমতা থেকেই মাঝে মাঝে কিছু এমপ্লয়ীরা তাদের জন্য নতুন নতুন সুযোগের সৃষ্টি করে। যদিও মানসিক দিক থেকে কঠিন মনোবল থাকলেও যথাযথ কার্যক্ষমতার অভাবের কারণে বেশির ভাগ এমপ্লয়ীদের জন্য এই কাজের চাপ সুযোগের বদলে এক ধরণের ঝামেলাতে পরিণত হচ্ছে। অনিয়ম জীবনধারাকেই সাধারণত এই কার্যক্ষমতা অভাবের প্রধান কারণ হিসেব ধরা হয়। সদ্য কেবল চাকরি জীবনে প্রবেশ করা চাকরিজীবী থেকে শুরু করে একটা কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই এখন এই অনিয়মের স্রোতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে এখানে দুঃসংবাদটি হলো এই অনিয়ম জীবনধারার ফলস্বরূপ হিসেবে আমাদের শরীরে নানা ভাবে বিভিন্ন ধরণের রোগের আগমন ঘটে চলছে।


সাম্প্রতিক এক ক্লিনিকাল নিউজ ভিত্তিক ওয়েবসাইট এইচ. সি. পি. লাইভে প্রকাশিত একটি আর্টিকেল অনুসারে, ৪০ শতাংশেরও বেশি কর্পোরেট এমপ্লয়ী গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নামক এক ধরণের ব্যাধিতে ভোগে। অনেকগুলো বিষয়কেই এখানে এর কারণ হিসেবে দায়ী করা যেতে পারে। চলুন কিছু কারণ দেখে নেই।


সময়মতো খাবার না খাওয়া


খাবারকে আমাদের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অনেকেই এই ব্যাপারে চরম মাত্রায় উদাসীন। তবে সচরাচর এমপ্লয়ীদের ক্ষেত্রে ব্যস্ততার জন্য এই উদাসীনতার মাত্রাটা একটু বেশি থাকে। সকালের নাস্তা করে বাসা থেকে বের হওয়ার পর মিটিং, ক্লাইন্টের সাথে কথা বলা এরকম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্য দিয়েই সারাদিন পার হয়ে যায়। এতো কাজের ফাঁকে লাঞ্চের সময়টা আর পাওয়া যায় না। অনেক সময়, এমপ্লয়ীরা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে তাদের দুপুরের খাবারের কথাও ভুলে যান। অন্যদিকে, বর্তমান তরুণ এমপ্লয়ীরা যারা কেবল কর্পোরেটের দুনিয়ায় পা রেখেছে তারা বেশির ভাগ সময়ই গুরুত্ব সহকারে দুপুরের লাঞ্চ করে না। অফিস শেষে কোন এক রেস্টুরেন্টে অথবা চায়ের দোকানে ফ্রেন্ড অথবা কলিগদের সাথে আড্ডায় বিকালের নাস্তাকে তারা সাধারণত দুপুরের লাঞ্চ হিসেবে চালিয়ে দেয়।


খাবারের গুণমান


আরেকটি বিষয় যেটি নিয়ে এমপ্লয়ীদের সচেতন হওয়া উচিত সেটি হলো কোন ধরণের খাবারকে তারা তাদের লাঞ্চ হিসেবে বেছে নিচ্ছে। আজকাল, একটা সমস্যা হলো আমাদের সবার সবকিছু খুব দ্রুতগতিতে দরকার। এই ধরনের মনোভাবের কারণে আমরা সবাই বিশেষ করে চাকরিজীবীরা দুপুরের খাবারের জন্য ক্রমাগত ফাস্টফুডের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরছি। আবার অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার দেয়া এই নির্ভরশীলতাকে দিন দিন আরো বাড়িয়ে তুলছে। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে কয়েকটা ট্যাপ আর আপনার পছন্দের বার্গার দরজার সামনে হাজির। তবে, এখানে মূল সমস্যা হলো অস্বাস্থ্যকর উপাদানের ব্যবহার যা ক্রমাগত এই ফাস্টফুড তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে। যেমন, সিঙ্গারা, সমুচা থেকে শুরু করে বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস সবকিছুতে যেই তেল ব্যবহার করা হয় তার গুণ ও মান সাধারণত খুবই নিম্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে। এই ধরণের ফাস্টফুডে সাধারণত হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করা হয় যা ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ তরল শাকসবজিতে হাইড্রোজেন যোগ করে প্রস্তুত করা হয়। এই টাইপের তেল সরাসরি আমাদের প্রোডাক্টিভিটিতে প্রভাব ফেলে যা আমাদের দৈনন্দিন কাজের গতি কমিয়ে দেয়। এছাড়াও এই ফাস্টফুডগুলোর স্বাদ বাড়ানোর জন্য যে বিভিন্ন ধরণের মশলা ব্যবহার করা হয় তার গুণমান এবং পরিমাণের ব্যাপারে আমাদের কোন ধারণা নেই। অনেক সময় ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়ার পরই আমরা পেটের ভিতরে জ্বালাপোড়া অনুভব করি যা আস্তে আস্তে গ্যাসের রূপ ধারণ করে। এর প্রধান কারণ হলো খাবারে অতিরিক্ত মশলার ব্যবহার।


লাঞ্চ না করা


আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষ এখনো দারিদ্রসীমার নিচেই বসবাস করছে। এই কঠিন আর্থিক দায়বদ্ধতার কারণে, বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত আয়ের এমপ্লয়ীরা সাধ্যের মধ্যে তাদের পরিবারকে সবটুকু দিতে গিয়ে নিজের সাথেই আপোষ করে বসেন। বেশির ভাগ সময়ই এদের দুপুরের খাবারের মেন্যু হিসেবে থাকে অফিসের আশেপাশের কোন এক টং-এর দোকানের দুই পিস বনরুটি আর সাথে হয়তো এক কাপ চা। আবার কারো কারো সেই দুই পিস বনরুটিও প্রতিদিন ভাগ্যে জোটে না। অ্যাপ থেকে খাবার অর্ডার করা অথবা আশেপাশের কোন রেস্তোরা থেকে লাঞ্চ করা রীতিমতো তাদের চিন্তার ভাবনার বাইরে। এই ধরণের কর্মীদের জন্য যদি অফিস থেকে লাঞ্চের কোন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে তাদের পক্ষে কোম্পানির জন্য সেরাটা দেয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।


তবে আমাদের খাবারের সাথে আপোস করার পিছনে কারণ যেটাই থাকুক না কেন, এর দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল হিসেবে আমাদের জন্য একটা ভয়ানক পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমাদের পাকস্থলীতে সামান্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে শুরু করে ব্যাপারটা আলসার পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে যার জন্য পরবর্তী সময়ে একমাত্র সমাধান হলো অপারেশন। এছাড়াও, ক্রমাগত যদি আমরা এই ‘গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল’ ব্যধিটি নিয়ে অবহেলা করতে থাকি তাহলে একটা সময় আমাদের এই ‘হিউম্যান রিসোর্স’ নামক বিশাল সম্পদটি একটা বড় বোঝাতে পরিণত হতে পারে। এর ছোট্ট একটা ঝলক আমরা ইতিমধ্যে সাম্প্রতিক মহামারী মোকাবেলার সময় দেখে ফেলেছি। দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের কারনে পুরো পৃথিবীর জনগোষ্ঠীকে সাময়িক সময়ের জন্য নড়বড়ে হয়ে যেতে হয়েছিলো।


আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যাভাসে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন আমাদের ইমিউন সিস্টেমের জন্য একটা আত্মরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো সঠিক সময় লাঞ্চ করা, খাবার বাছাইয়ের সময় কিছুটা সচেতনতা অবলম্বন করা এবং কোনভাবেই যেন লাঞ্চ মিস না হয় সে বিষয় নিশ্চিত করা। তবে যাদেরকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসে একটা ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় তাদের জন্য এরকম রুটিন মেনে চলা একটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই কষ্টের অবসানের লক্ষ্যে কর্পোরেট ক্যাটারিং সার্ভিস ‘sCatering’ প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে। অফিস লাঞ্চে ঘরোয়া খাবারের স্বাদ ও গুণ কে না চায়, সেই সাথে তা যদি পাওয়া যেতো সাধ্যের ভিতরে তাহলে তো আর কথাই নাই। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই ‘sCatering’ নিয়ে এসেছে ঘরোয়া পরিবেশে তৈরী অফিস লাঞ্চ। যথাযথ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার নিয়ে ‘sCatering’-এর প্রফেশনাল সেবা প্রদানকারীরা সময়মতো পৌঁছে যায় এমপ্লয়ীদেরকে তাদের সেরা সার্ভিসটা দেওয়ার জন্য। মাঝে মাঝে অফিসের ক্যান্টিনে একই ধরণের খাবার খেতে খেতে কেমন যেন একঘেয়েমিতা চলে আসে। তাই ‘sCatering’-এ সপ্তাহে প্রতিদিনই থাকছে ভিন্ন ভিন্ন মিল। আমরা বিশ্বাস করি কাস্টমারের সন্তুষ্টিতেই আমাদের সব পরিশ্রমের সার্থকতা। এই সন্তুষ্টি সর্বোচ্চ নিশ্চিত করতে ‘sCatering’-এ সব কাস্টমারের জন্য সবসময় নিবেদিত থাকে একজন ডেডিকেটেড ম্যানেজার।


sCatering’-থেকে অফিস লাঞ্চ অর্ডার করতে ডায়াল করুন ০১৮৩৩৩০৯৫৫৫ অথবা ভিজিট করুন https://www.sbusiness.xyz/scatering


5 views0 comments